পরিবেশবান্ধব সোনালি আঁশের প্রসারে নারায়ণগঞ্জে 'বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ২০২৬' এর শুভ উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে 'বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ২০২৬' এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং সকাল ১১টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম, এমপি এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, এমপি। এছাড়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কিছু উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রকৃত হিসাবে দ্রব্যমূল্যে এর প্রভাব তুলনামূলক কম। সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিং করছে।”পাটখাতের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশে পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে পলিথিনের ব্যবহার কমানো যায়।”তিনি আরও বলেন, “কাঁচা পাট রপ্তানির তুলনায় পাটপণ্য তৈরি করে রপ্তানি করলে বেশি মূল্য সংযোজন হয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।”সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, “পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ। পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন পাটজাত পণ্যের প্রসার ঘটাতে এ ধরনের মেলার গুরুত্ব অপরিসীম। পাটশিল্পের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে। নারায়ণগঞ্জের উদ্যোক্তারা যেন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে পারে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলায় দেশীয় বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পাটজাত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের সুযোগ পেয়ে মেলার উদ্যোক্তারা আনন্দিত ও খুশি হয়েছেন এবং মেলার আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মেলাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।মেলায় পাটের তৈরি নানাবিধ আধুনিক ও ব্যবহারিক পণ্য— ব্যাগ, জুতা, শাড়ি, পর্দা, গৃহসজ্জা সামগ্রী, হস্তশিল্প ও প্যাকেজিং সামগ্রীর সমাহার রয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই মেলা পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



