ইতালিতে পাঠানোর নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা ​নিজস্ব প্রতিবেদক / চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  • প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, রাত ১১:১২
1000203732

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ইতালিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার।

​প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই কর্মসূচি পালন করেন।

​ভুয়া 'নুলস্তা' দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

​ভুক্তভোগীদের লিখিত আবেদন ও মানববন্ধন সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৪নং বারঘরিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চামাগ্রাম এলাকার মো: রবু মেম্বারের দুই ছেলে মোহাম্মদ আলী কালু (ইতালি প্রবাসী, মোবা: +৩৯৩৩১৩৯২৪০৭৯) এবং তার ভাই পালু (মোবা: ০১৭৬১-৭৫৩৭৯৫) এলাকার নিরীহ ও কর্মসংস্থান প্রত্যাশী যুবকদের টার্গেট করে। তারা ইতালিতে উচ্চ বেতনে নিশ্চিত চাকরির প্রলোভন দেখায়।

​পরবর্তীতে ইতালির ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট বা ‘নুলস্তা’ (Nulla Osta) দেখিয়ে ভিসা ও চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি।

​নিঃস্ব পরিবার, মিলছে না সমাধান

​ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কাউকে ইতালিতে পাঠানো হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। জমিজমা ও সম্বল বিক্রি করে টাকা দেওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন চরম আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

​ভুক্তভোগীদের আকুতি: "আমরা ধার-দেনা করে, জমি বিক্রি করে ইতালির আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখন আমাদের টাকাও নেই, বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নও শেষ। আমরা এর বিচার চাই এবং আমাদের রক্ত জল করা টাকা ফেরত চাই।"

​প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

​এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যেন:

​বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়।

​প্রতারক চক্রের মূল হোতা মোহাম্মদ আলী কালু ও পালুর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

​আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিকট ফেরত দেওয়া হয়।

​ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ মানুষ যেন এমন আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত না হয়, সে জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Ad