নিখোঁজের সাত দিন পর ডোবায় মিলল শিশু কলির মরদেহ

  • প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৫:৫৯
  • আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৫:৫৯
WhatsApp Image 2026-09-16 at 5.48.53 PM

পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর কামরুন্নাহার কলি (১০) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।নিহত কলি দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি কলির বলে শনাক্ত করেছেন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরে মায়ের হাতে বাজারের ব্যাগ দিয়ে বাড়ির পাশে যায় সে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির ব্যবহৃত স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা কামাল প্রামাণিক।

নিখোঁজের পর কলির সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা শহরে স্বজন ও সহপাঠীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। এর পরদিন সকালে বাড়ির পাশের ডোবায় বস্তাবন্দি একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।কলিকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের দাবি, নিখোঁজের পর তারা পুলিশকে বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য সূত্র জানিয়েছিলেন। এসব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পরিবারের ধারণা, স্থানীয় কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে কারও সঙ্গে তাদের পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।কলির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, “আমার মেয়ে সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমরা তাকে খুঁজেছি। সাত দিন ধরে বুকের মধ্যে আশা ছিল, মেয়েকে হয়তো ফিরে পাব। কিন্তু আজ যে অবস্থায় তাকে পেলাম, তা কোনো বাবা-মায়ের জন্যই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক।” পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

Ad