অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখবো: যদুনন্দি ইউপি চেয়ারম্যান রফিক মোল্লা

  • প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৬:৪৩
  • আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ০৬:৪৩
WhatsApp Image 2026-09-22 at 5.08.24 PM

আবুল কাশেম,সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথায় স্থানীয় একটি মিটিংয়ে সমর্থকদের অস্ত্র তৈরীর নির্দেশ এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লার বিরুদ্ধে।সম্প্রতি সালথা উপজেলার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত একটি সভায় দেওয়া যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বক্তব্যের একটি ভিডিও গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ‘অস্ত্র বানানোর’ কথা বলতে শোনা যায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তিনি তা দেখবেন—এমন বক্তব্যও ভিডিওতে রয়েছে ।ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বক্তব্যটির সমালোচনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।রফিকুল ইসলাম সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামের মেসের খানের পুত্র। তাঁর বয়স ৫৫ বছর। তিনি ২০২০ সালে দীর্ঘ ২২ বছর বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরে ১১ নভেম্বর ২০২১ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুর রব মোল্লাকে পরাজিত করে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে হত্যা সহ ১৭ মামলা হয়েছিল; বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে।তবে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা দাবি করেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এডিট করা। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।তিনি আরও বলেন, তার দলের এক ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যান রেখে দিয়েছে। চাইলে দলীয় লোকজন নিয়ে ভ্যানটি উদ্ধার করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা না করে পুলিশের সহায়তা নিচ্ছেন। বর্তমানে এলাকাকে শান্ত রাখতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন।এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। চেয়ারম্যান সম্প্রতি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, ভিডিওটি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad