পাবনায় আলোচিত শিশু কলি হত্যা: তৃতীয় দিনেও প্রধান আসামির বাড়িতে ভাঙচুর

  • প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ০৯:৩৪
  • আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ০৯:৩৪
WhatsApp Image 2026-09-20 at 9.29.50 PM

পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বহুতল বাড়িতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়া গ্রামের ওই বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় অনেকের হাতে হাতুড়িসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু হয়। শনিবারও দিনভর চলে এ কার্যক্রম। এর ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে আবারও নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে জড়ো হন।

ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, শিশু কলির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লোকজন বাড়িটিতে ভাঙচুর করেন। শুধু স্থানীয়রাই নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেকে সেখানে এসে ভিড় করেন।

এর আগে রোববার দুপুর ১২টার দিকে কলি হত্যার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ঘেরাও করেন নিহত শিশুটির স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী জানান, পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে শিশুটিকে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন।

পুলিশ দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে আরও দু-এক দিন সময় লাগতে পারে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

Ad