কুমিল্লায় চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে অতিষ্ঠ জনজীবন
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লাজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকটে থমকে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম, সবখানেই এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলছে লোডশেডিং। কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি খারাপ থাকলেও বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে তা এক বিভীষিকাময় রূপ নিয়েছে। কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকাসহ আশেপাশের ছয়টি জেলায় একদিকে তীব্র লোডশেডিং, অন্যদিকে বুধবার সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের রক্ত পরীক্ষাসহ নানা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিল অস্ত্রোপচার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, গত সোমবার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কোনো রোগীরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ-৩ এর কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলেনি। আগে অন্তত সকালে কিছু সময় নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ পাওয়া গেলেও বর্তমানে সেটুকুও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে কুমিল্লা নগরের চিত্রও একই রকম করুণ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকা এবং একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় থমকে গেছে গৃহস্থালির কার্যক্রম। রান্না-বান্নার জন্য বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক বা ইনফ্রারেড চুলা ব্যবহার করতে গিয়েও বারবার বিদ্যুৎ যাওয়ার কারণে বিপাকে পড়ছেন নগরবাসী। আবার গ্রামীণ জনপদের অবস্থা আরও শোচনীয়; সেখানকার বাসিন্দাদের মতে, গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহের চিত্র এতটাই নাজুক যে লোডশেডিং নিয়ে কথা বলাই বৃথা। তবে বিদ্যুতের এই সংকট নিয়ে ভিন্ন দাবি করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির জানান, কুমিল্লা অঞ্চলের ছয়টি জেলায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১,৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে তারা ১,১০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি সরবরাহ পেয়েছেন। গ্রাহকদের কাছে সংকট বড় মনে হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, ফিডারগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে পিডিবির এই দাবির সাথে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগের চরম বৈপরিত্য ফুটে উঠেছে।



