পরিচয়পত্র দেখাতে না চাওয়ায় সন্দেহ, কুবি ক্যাম্পাসে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর

  • প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৫৫
  • আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৫৫
1000290305

জিএম মাকছুদুর রহমান:

কুমিল্লা নগরীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে তল্লাশির সময় পরিচয়পত্র দেখাতে না চাওয়ায় ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই পুলিশ সদস্য ও পুলিশের এক সোর্সকে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে সেখানে তাদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের আলোচনার পর লিখিত সমঝোতা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হানিফ, কনস্টেবল শ্যামল ও পুলিশের সোর্স জাহিদ। অন্যদিকে, এ ঘটনায় জড়িত দুই শিক্ষার্থী হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সিফাত হোসেন সিয়াম ও অর্প।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিউশন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে রেসকোর্স এলাকায় ওই দুই শিক্ষার্থীর পথরোধ করেন তিন ব্যক্তি। তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করতে চান। তবে শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। এ সময় ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে দাবি করেন তারা। এ নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে আশপাশে অন্য শিক্ষার্থীরা জড়ো হলে তিন ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাস থেকে নামানোর পর তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়। কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস তাদের পুলিশ সদস্য ও সোর্স হিসেবে শনাক্ত করেন।

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম জানান, তিনি ও তাঁর বন্ধু অর্প হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় একজন এসে অর্পের বুকে হাত দিয়ে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তল্লাশির কথা বলেন এবং তাঁর পকেটে হাত দেন। পরে তাঁদের পরিচয় ও বাসস্থান সম্পর্কে জানতে চান। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে পরিচয়পত্র দেখানোর প্রস্তাব দিলেও অপর পক্ষের সদস্যরা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখাননি। সিয়ামের ভাষ্য, তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে বারবার হ্যান্ডকাফ দেখানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এসে পুলিশ হলেও এভাবে আচরণ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তল্লাশির কথা বলে তিনজনকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘটনাটিতে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পরিচয় যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি এবং তাঁদের কাছে পরিচয়পত্রও ছিল না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদেরও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত হয়নি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো যেত। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানো হয়েছে। উভয় পক্ষই তা মেনে নিয়েছে। এদিকে, পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইতোমধ্যে তাঁর বক্তব্য দিয়েছেন। লিখিত সমঝোতার মধ্য দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার নিষ্পত্তি হলেও পুলিশের পরিচয় নিশ্চিত করার পদ্ধতি, দায়িত্ব পালনের আচরণ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Ad