গাজীপুরে দাবিকৃত চাঁদার টাকা আদায়,করাকে কেন্দ্র করে তপের মুখে আরএনবি ইনচার্জ ইমরান

  • প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, বিকাল ০৭:১৬
0be21d12-1461-4acf-ac43-e8a13965d306


স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলগেট কালি মন্দির এলাকায় দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পাওয়ায় গতকাল রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে হকারদের ওপর আকস্মিক আক্রমণ ও গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে ।পরে শত শত জনতার চাপের মুখে পড়ে আটককৃতদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন আরএনবি ইনচার্জ ইমরান।

স্থানীয় হকারদের দাবি, তিনি যোগদানের পর থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। সম্প্রতি তা না দেওয়ায় অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা করেন ও স্টল ভাঙচুর করেন। পরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পণ্য সরিয়ে নেয় এবং কিছু হকারা তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে থাকা অনেক হকারকে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করলে পরে হকাররা একত্রিত হয়ে উল্টা আর এনবি ইনচার্জ ইমরানের ওপরে ক্ষিপ্ত হন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। আওয়ামী লীগের দোসর,বেপরোয়া চাঁদাবাজি মানি না মানবো না। আবার অনেকেই দোকানপাট গুটিয়ে পালিয়ে যান।

ভূক্তভোগী বাবুল মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কালি মন্দিরের সামনে আদা, রসুন, পেয়াজের ব্যবসা করে আসছি। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে আরএনবি ইনচার্জ ইমরান দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখন তাকে পাথি প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতাম। বর্তমানে গত অক্টোবর মাসে আবার যোগদান করেন আরএনবি ইনচার্জ ইমরান। যোগ দান করে সে এখন প্রতি পাথি ২০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন এবং আরো বলেন, আমি আমার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে আবার জদেবপুর রেলওয়ে জংশনে এসেছি। এক পর্যায়ে আমি দাবিকৃত দুই শত টাকা দিতে অস্বীকার করিলে সে আমাকে আমার ডান এবং বাম পায়ের ওরতে, পিঠে, কোমড়ে বেপরোয়া লাঠি চার্জ করে। আমার ব্যবহৃত ডিজিটিাল মিটার স্কেল ভেঙ্গে ফেলে। ভূক্তভোগী রাজিব মিয়া ও হাবিবসহ আরো অনেকে একই বক্তব্য দেন এবং ঘুষখোর চাঁদাবাজ আরএমবির ইনচার্জ ইমরানের প্রত্যাহারের দাবিও করেন তারা ।

এ বিষয়ে হকার শিল্পী আক্তার বলেন, আমি এবং আমার ছোটবোন ও বোনের জামাই এ এলাকায় প্রায় ১০ বছর যাবত আলু, পেয়াজ রশুন ও আদার ব্যবসা করে আসছি। আমরা বিগত দিনে চাঁদা হিসেবে প্রতি পাথি ৫০ টাকা করে দিয়ে আসছি। গত অক্টোবর মাসে আরএনবি ইনচার্জ ইমরান যোগ দান করার পর থেকে সে আমাদের হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন পাথি প্রতি ২০০ টাকা দাবি করে। নজরুল ইসলাম ভান্ডারীকে জোর করে চাঁদ তুলতে বাধ্য করেন। পাথি প্রতি ৫০ টাকা চাঁদা তুলে ইমরানের কাছে দিতেন। প্রতিদিন ৩০০ পাথি থেকে টাকা তুলা হয় আর এনবির ইনচার্জ ইমরানের নির্দেশে। টাকা কম হলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি অপমান অপদস্থ করতেন এই আর এমবির ইনচার্জ ইমরান।

চাঁদাবাজি ও মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে, জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার ও রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, আমরা এই বিষয়ে কিছুই জানিনা। মারধরের বিষয় আমাদের আরএনবি ইনচার্জ ইমরান জানানোর পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দুই জনকে আটক করেছে। পরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে পড়ে আটককৃতদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন । আটককৃতদের ছেড়ে দেবার বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আটককৃতদের বিষয়ে কোনো কিছুই জানিনা।

উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে আবার গাজীপুর আসার বিষয়ে আরএনবি ইনচার্জ ইমরানের কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

এবং আটককৃত ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানালে তারা আটককৃতদের রেলওয়ে পুলিশে হস্তান্তরের কথা বলেছেন। আমি আমার কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি আটককৃত ব্যক্তিদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে হকাররা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের উপর এমন অন্যায় আচরণ করে ইচ্ছামতো ভাঙচুর বা গ্রেফতার করা ঠিক নয়।

ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোড়দাবি জানান।

Ad