সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশায় আমদিয়া ইউনিয়নবাসী ভূমিদস্যু, মাদকাসক্ত, দুর্নীতিবাজ ও জুলুমকারীদের প্রত্যাখ্যান করতে চান ভোটাররা
কামরুল হাসান জুয়েল, নরসিংদী :
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ভোটের মাঠে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা, চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কণ্ঠে উঠেছে একটি অভিন্ন প্রত্যাশা—দল-মত কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, এবার তারা চান সৎ, যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধির পদ কোনো ব্যক্তির ক্ষমতা প্রদর্শন কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জায়গা নয়; এটি জনগণের আমানত ও সেবার দায়িত্ব। তাই ইউনিয়নের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের দেখতে চান তারা, যাদের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, মাদকাসক্তি, দুর্নীতি, জুলুম-নির্যাতন কিংবা অন্যায়কে প্রশ্রয় ও মদদ দেওয়ার অভিযোগ নেই এবং যারা মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা রাখেন।তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচনে ভোটের মাঠে যেন অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তি কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাবশালী বলয়ের চেয়ে সততা, যোগ্যতা, নৈতিকতা, জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা বেশি গুরুত্ব পায়। কারণ একটি সঠিক ভোট শুধু একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করে না; সেই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় একটি ইউনিয়নের আগামী দিনের নেতৃত্ব ও উন্নয়নের গতিপথ।
আমদিয়া ইউনিয়নবাসীর মতে, একজন জনপ্রতিনিধির কাজ কেবল নির্বাচনের সময় মানুষের দরজায় গিয়ে ভোট চাওয়া নয়। নির্বাচিত হওয়ার পরও তাকে মানুষের পাশে থাকতে হবে। ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, নাগরিক সুবিধা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনে তা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।স্থানীয়রা আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি হবেন জনগণের অভিভাবক—ভয় কিংবা আতঙ্কের কারণ নন। অন্যায়কারীর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের পাশে থাকা এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব।
তাদের ভাষ্য, ভোট মানুষের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার। তবে সেই অধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি একজন যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেওয়াও ভোটারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই আত্মীয়তা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সাময়িক সুবিধা কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা, নৈতিক চরিত্র, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, অতীত কর্মকাণ্ড ও জনসেবার মানসিকতা বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।নির্বাচন নিয়ে আমদিয়া ইউনিয়নের পাকুরিয়া বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আরমান হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি এলাকার মানুষের কথা শুনবেন, সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে ও পরে যার আচরণে কোনো পার্থক্য থাকবে না, এমন সৎ ও যোগ্য মানুষকেই আমরা নেতৃত্বে দেখতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “ভোট আমাদের অধিকার। তাই কাউকে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রভাব কিংবা সাময়িক সুবিধার কারণে নয়—প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করেই ভোট দেওয়া উচিত। আমদিয়া ইউনিয়নের মানুষ নিশ্চয়ই ভালো-মন্দ বিচার করে যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবেন।”আমদিয়া ইউনিয়নের সচেতন বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের মাঠে এমন প্রার্থীরাই এগিয়ে আসবেন, যারা ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু নয়, বরং মানুষের সেবা ও ইউনিয়নের উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ভোটাররা কোনো ধরনের ভয়, প্রলোভন বা প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন জোরালো।সবশেষে স্থানীয়দের কণ্ঠে যেন একটি কথাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—“আমরা এমন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ থাকবেন।”
তাদের বিশ্বাস, সৎ নেতৃত্বের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে আমদিয়া ইউনিয়নের চিত্র। যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে উন্নয়ন, সুশাসন ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আমদিয়া ইউনিয়ন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশাই এখন ইউনিয়নবাসীর।



