শিশু কলি হত্যা: পাবনায় আদালত ও ডিসি কার্যালয় ঘেরাও, ৭ দিনের মধ্যে চার্জশিটের দাবি

  • প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ০৪:১৬
  • আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ০৪:১৬
WhatsApp Image 2026-09-20 at 3.26.41 PM

পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনা সদর উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন নিহত শিশুটির স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শত শত মানুষ মিছিল নিয়ে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে অবস্থান নেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা কলি হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার, তদন্ত শেষ করে সাত দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নিহত কলির বাবা কামাল হোসেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম, ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কয়েকশ মানুষ।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অনিয়ম বা তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

সমাবেশে কয়েকজন বক্তা আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালে সামাজিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও বলেন। পাশাপাশি বিচার নিশ্চিত না হলে আসামিদের প্রাণনাশ এবং তাদের বাড়ি ভেঙে কলির নামে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সদর উপজেলার কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন।

পুলিশ দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এদিকে আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে শুক্রবার ও শনিবার দিনভর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বহুতল ভবনটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। রোববারও বাড়িটিতে ভাঙচুর চলছিল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “আসামির যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, আমাদের পক্ষ থেকে সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Ad