হোটেলে সর্বনিম্ন মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে স্মারকলিপি প্রদান
রাজশাহী:
হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে 'নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ'। রাজশাহী জেলা কমিটির উদ্যোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক এবং রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
রবিবার সকালে রাজশাহী নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় অবস্থিত কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক বরাবর অপর একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। কর্মসূচিতে রাজশাহীর স্থানীয় শ্রমিকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।বাস্তবায়নের অভাবে ক্ষোভ ও প্রধান দাবিসমূহ দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো: ফিরোজ হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো: মিঠুন। সমাবেশ থেকে রাজশাহী বিভাগ ও বিভিন্ন জেলার দায়িত্বশীল নেতা ও শ্রমিকদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।
সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন: গেজেট বাস্তবায়নে বিলম্ব: ২০২৫ সালের ৫ মে দেশের প্রায় ৪০ লাখ হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিকের জন্য নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করেছিল সরকার। তবে দীর্ঘ ১৬ মাস পার হয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে শ্রম অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো কার্যকর তদারকি দেখা যাচ্ছে না। জীবনযাত্রার মান ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি: ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিন যে হারে বাড়ছে, তাতে বর্তমান অপর্যাপ্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রেশনিং ব্যবস্থায় বৈষম্য: সরকারি কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি বেতন পেয়েও কম দামে রেশনের সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ হোটেল সেক্টরের ৪০ লাখ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের জন্য এই সুবিধা নেই।ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক:
নেতৃবৃন্দ বলেন, "একই দেশে দুই ধরনের আইন ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা পরিহার করে 'মজুরি-দাসত্ব' ব্যবস্থা উচ্ছেদ করতে হবে। শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে অবিলম্বে স্বল্পমূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং সর্বনিম্ন মজুরির গেজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।" এর জন্য দেশের সকল শ্রমিক সংগঠনকে একত্রিত হয়ে রাজপথে সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।



