টানা বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন প্লাবিত

  • প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, দুপুর ০৪:৪৪
  • আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, দুপুর ০৪:৪৪
WhatsApp Image 2026-07-09 at 4.36.03 PM

পাহাড় ধসে তিন জেলায় প্রাণহানি ; দুর্গত মানুষের পাশে প্রশাসন

মোঃ আবদুল্লাহ (আল্-মামুন) 

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানীহাট চৌরাস্তা এলাকার একাংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া মহাসড়কের আরও কয়েকটি স্থানে পানি ওঠায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা ।

এদিকে ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বুধবার লামা উপজেলার আজিজনগর এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ চকরিয়া উপজেলার নবগঠিত পহরচাঁদা ইউনিয়নের মচুইন্নাকাটা এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত হয়েছেন দুইজন। পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়ায় এজন। এর আগে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড় ধসে সাত জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

পাহাড় ধসে নিহতদের খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার তাৎক্ষণিকভাবে মচুইন্নাকাটা এলাকায় গিয়ে নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত মানুষকে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে লামা উপজেলা প্রশাসনও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিহত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করছে প্রশাসন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে অতি প্রয়োজন ছাড়া বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Ad