চলনবিলে ঘনকুয়াশা ও শীতের তীব্রতায় লেপ-তোষক তৈরীর মহাৎসব চলছে
মির্জা আব্দুর রব বুলবুল, স্টাফ রিপোর্টার :-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক চলনবিল এলাকায় গত কয়েকদিন যাবৎ ঘনকুয়াশা ও শৈত প্রবাহের কারণে তীব্র শীত অনুভব হচ্ছে। ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে চলনবিলের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমহর, গুরুদাসপুর, সিংড়া ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার গুলোতে শীত নিবারুনের জন্য এ এলাকায় বসবাসরত সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য লেপ-তোষক তৈরির মহাৎসব চলছে। গত ২দিন যাবৎ হালকা রোদের দেখা মিললেও শীত কমেনি। কারণ পৌষ ও মাঘ এ দু’মাস শীতকাল তাই লেপ-তোষক তৈরির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট দোকানদার ও কারিগরদের যেন দম ফেলার সময় নেই। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায় এ কাজের কারিগরগণ লেপ-তোষকের তুলার স্তুপ করে তার উপর ধনুক বা বিশেষ ধরণের লাঠি দ্বারা আঘাত করে তুলা প্রক্রিয়াজাত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। তুলা পুরাপুরি প্রক্রিয়াজাত শেষ হলে সেই তুলা তখন কাপড়ের তৈরি কভারগুলোতে ঢোকানোর পরে লেপ-তোষক তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করছেন। কভারের ভিতরে তুলা ঢোকানোর পর তা দোকানের মেঝেতে বিছিয়ে কভার ও কভারের ভিতরে তুলা ভেদ করে সূঁই দিয়ে সেলাই করে লেপ-তোষক তৈরি করছেন। সুঁই-সুতার গাঁধনিতে তুলা ও কভার বাঁধা পড়ে তৈরি হয় লেপ-তোষক। চলনবিল এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান শীতের মৌসুমে শুরুতে লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে মানুষের ভীড় একটু বেশি থাকে। তবে এ বছর শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে তাই অন্যান্য তুলনায় একটু আগেই লেপ-তোষক বিক্রির হিড়িক পড়েছে। প্রতিবছর শীতের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে লেপ-তোষকের দোকানগুলো সাধারণ মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। শীত আগে আসার কারণে চলতি বছরে তা ব্যকিক্রম হয়েছে। এ এলাকার ব্যবসায়ীরা বলেন এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে তাদের ধারণা। ব্যবসায়ীরা জানান সারা বছর এ ব্যবসার বিক্রি কম থাকে, তবে শীতের মৌসুমে ব্যবসা করে সারা বছরের আয়-রোজগার করতে হয়। ব্যবসায়ীরা আরোও জানান এবার শীত মৌসুমের শুরুতেই শীতের বেচাকেনা বেড়েছে। শীত বেশি পড়লে বেচাকেনা দ্বিগুন বেড়ে যাবে বলে আশাবাদী। একটা সিঙ্গেল লেপ-তোষক সর্বনিম্ন ৮০০/- টাকা থেক ১২০০/- টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। সেমি লেপ-তোষক তৈরিতে ১২০০/-টাকা থেকে ১৫০০/-টাকা এবং ডাবল লেপ-তোষক তৈরিতে ১৫০০/- টাকা থেকে ২০০০/-টাকায় বিক্রয় হয়। তবে ক্ষেত্র বিশেষে তোষক তৈরিতে খরচ কিছুটা বেশি পড়ে। তোষক তৈরিতে তুলার মান, পরিমাণ, নারিকেলের ছোবলা ও কাপড়ের উপর নির্ভর করে দাম। শীতের আগমনী বার্তা ব্যবসায়ীদের সুদিন বয়ে এনেছে বলে অনেক ব্যবসায়ী এ প্রতিবেদককে বলেন, এ জন্য তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। লেপ-তোষক ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল মজিদ জানান চলতি বছরে ঘনকুয়াশা ও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাল বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানান। # ০৭.০১.২০২৬ ইং
মির্জা আব্দুর রব বুলবুল, স্টাফ রিপোর্টার, মোবাইল নং-০১৭১১-০২৯৪১৯।
সংযুক্ত ছবি

