অভিযোগের অন্ত নেই পলাশ সিকদারের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ০৫:০৩
  • আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ০৫:০৩
Untitled design (11)

বিশেষ প্রতিনিধি:

পিরোজপুর নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি থেকে ফিরে, মোঃ আলমগীর হোসেন:- পলাশ সিকদার, বাবা- আব্দুর রব সিকদার (সাবেক চেয়ারম্যান, গুয়ারেখা ইউনিয়ন)। বর্তমানে রাজউকের অথরাইজড অফিসার। ২০১৬ সালে রাজউকে চাকরিতে যোগদান করেন। তার আগে লেখা পড়ার পাশাপাশি পলাশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। সরেজমিন পলাশের নিজ এলাকা গুয়ারেখা গ্রাম ও ইউনিয়ন ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার বাবা আব্দুর রব সিকদার চেয়ারম্যান থাকাকালীন মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর পর ওই একই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদটি পরিবারের মাঝে ধরে রাখতে নিজ স্ত্রী ফারজানার জন্য সাবেক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে মনোনয়ন নিয়েছেন মর্মে এলাকায় জনশ্রুতি আছে। নির্বাচন শেষ অবদি ২/৩ কোটি টাকা খরচ করেছেন বলেও অভিযোগ আছে। যদিও সে নির্বাচনে তার স্ত্রী পরাজিত হন। এলাকাবাসির অভিযোগ সামান্য একজন সরকারি কর্মচারী পলাশের এত টাকার উৎস কি? পলাশের নিজ এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে আজ পর্যন্ত পলাশ গ্রামের বাড়িতে যাননি। কেন যাননি? এমন প্রশ্নের জবাবে এলাকাবাসী জানিয়েছে পলাশ সিকদার খুব বেশি ভালো মানুষ না। আপনি খবর নিয়ে দেখেন এলাকার লোকজন এখনো তার ভয়ে কথা বলতে সাহস করেনা। এই এলাকায় পলাশ নিজস্ব একটা হেলমেট বাহিনী পুষতেন। এখনো তাদের বিচরণ আছে। যদি সে/ তার বাহিনী টের পায় তাহলে আপনারা যাওয়ার পর আমাদের অবস্থা খারাপ হবে। সে এলাকায় টাকা দিয়ে গুন্ডা, মাস্তান পালে। বাবার বাড়ী থাকতে পলাশ আবার নিজের অর্থে আলিশান বাড়ী করছে এতো টাকা পায় কোথায়, সে তো তার বাবার কোন জায়গা জমিও বিক্রি করে নাই।এখানেই ক্ষান্ত হননি পলাশ সিকদার,রাজউক কর্মকর্তা পলাশ শিকদারের নজিরবিহীন নকশা জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট দুর্নীতির আমলনামা, ক্ষমতার দাপট, শতকোটি টাকার অবৈধ লেনদেন এবং দুদকের জালে আটকা পড়া এক অসাধু চক্রের মূল হোতা এই পলাশ সিকদার। ​রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ভেতরের প্রশাসনিক কাঠামো এবং দায়িত্বশীলতার মূল ভিত্তি কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ ইমারত পরিদর্শক পলাশ শিকদার। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাজ হলো পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা এবং জনগণের আবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা সহজ করা। কিন্তু পলাশ শিকদার ও তার অনুসারী সিন্ডিকেট সেই প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও বিপুল অর্থ উপার্জনের হাটে পরিণত করেছিলেন। রাজধানী ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে শুরু করে রাজউকের বিভিন্ন জোনে নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র এবং বাণিজ্যিক ভবনের ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক অদম্য ও সমান্তরাল সাম্রাজ্য। সরকারি নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে রাজউকের অভ্যন্তরীণ একটি শক্তিশালী চক্রকে সাথে নিয়ে তিনি সাধারণ গ্রাহক ও আবাসন ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মর্মে অভিযোগ আছে। তার এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি সম্প্রতি রাজউকের অভ্যন্তরীণ শৃংঙ্খলা কমিটির তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে সুস্পষ্টভাবে বেরিয়ে এসেছে, যা বর্তমানে প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, ​রাজউকে পলাশ শিকদারের দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপ্তি বোঝার জন্য তার গৃহীত নির্দিষ্ট খাতগুলো এবং সেখান থেকে আদায় করা অবৈধ অর্থের পরিমাণ বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি। উত্তরখান ডাবল নকশা জালিয়াতি ছিল পলাশ শিকদার ও তার সহযোগীদের অন্যতম বড় আয়ের উৎস। সাধারণ গ্রাহকরা যেখানে একটি বৈধ নকশা অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিয়ে মাসের পর মাস ঘুরেও কাজ পেতেন না, সেখানে এই সিন্ডিকেটকে এক কোটি টাকা ঘুষ দিলেই জালিয়াতির মাধ্যমে ডাবল নকশা তৈরি করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ আছে । অর্থাৎ রাজউকের আসল নথিতে এক ধরনের নকশা অনুমোদিত থাকত, আর গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়া হতো অন্য আরেকটি নকশা—যার মাধ্যমে জলাশয়, রাস্তা কিংবা নিয়মবহির্ভূত জায়গায় বহুতল ভবন গড়ে তোলার অনুমোদন দেখানো হতো। এই উত্তরখান ডাবল নকশা প্রক্রিয়া থেকে সিন্ডিকেটের নামে আনুমানিক ১,০০,০০,০০০/- (এক কোটি) টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করা হয়েছে, যার মূল সুবিধাভোগী ছিলেন পলাশ শিকদার নিজে, তার অন্যতম সহযোগী মোবারক এবং মাহাবুব। এই তিনজনের সমন্বয়ে গঠিত চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে রাজউকের ওই জোনে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণার জালে ফেলে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছিল।শুধু উত্তরখান ডাবল নকশাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না পলাশ শিকদার, রাজউকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা 'ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র' দেওয়ার ক্ষেত্রটিকেও তিনি পরিণত করেছিলেন বাণিজ্যের হাতিয়ারে। একটি ভবনের মূল অবকাঠামো তৈরির আগে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র পাওয়া অত্যন্ত আবশ্যক এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই সেবা পাওয়ার জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি অত্যন্ত নামমাত্র। কিন্তু পলাশ শিকদার ও তার দালাল চক্র এই নামমাত্র সরকারি ফির সুযোগ নিয়ে ফাইল আটকে রাখতেন এবং প্রতিটি ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের বিপরীতে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লাখ) টাকা থেকে ১০,০০,০০০/- (দশ লাখ) টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ বা ঘুষ দাবি করতেন। টাকা না দিলে নথিতে নানা ধরনের অবাস্তব ভুলত্রুটি ধরে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হতো। এতে করে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে পলাশ শিকদার ও তার অনুগত দালাল চক্রের হাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ তুলে দিতেন। এই খাত থেকে অর্জিত ঘুষের সিংহভাগ সরাসরি চলে যেত পলাশ শিকদার এবং তার পরিচালিত মাঠপর্যায়ের দালালদের পকেটে।​সবচেয়ে ভয়াবহ ও আশঙ্কাজনক দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে বাণিজ্যিক নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে। আবাসন ব্যবসায়ী কিংবা বাণিজ্যিক ভবনের মালিকরা তাদের ভবনের প্ল্যান পাসের জন্য স্কেল ভিত্তিক নির্দিষ্ট সরকারি ফি প্রদান করলেও, পলাশ শিকদার সিন্ডিকেটের অবৈধ দাবি না মেটালে নকশার কোনো ফাইলই এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে যেত না। প্রতিটি বাণিজ্যিক নকশা অনুমোদনের জন্য এই অসাধু কর্মকর্তা ২০,০০,০০০/- (বিশ লাখ) টাকা থেকে ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ লাখ) টাকা পর্যন্ত মোটা অঙ্কের অবৈধ অর্থ আদায় করতেন। নকশায় বড় ধরনের গাফিলতি থাকা সত্তেও মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ঝুঁকির পরোয়া না করেই সেসব বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হতো, যা রাজধানীর সামগ্রিক নিরাপদ নগরায়ণের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাণিজ্যিক নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা হস্তান্তরিত হতো পলাশ শিকদার সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রকদের হাতে, যার পুরো প্রক্রিয়াই পরিচালনা করতেন পলাশ শিকদার নিজে।

পলাশ শিকদারের দুর্নীতির ব্যাপ্তি শুধু ঘুষ গ্রহণ বা নকশা জালিয়াতিতেই সীমিত ছিল না, কর্মস্থলে তার উপস্থিতি ও প্রশাসনিক আচরণের মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছিল চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও বিশৃঙ্খলা। রাজউকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কমিটির তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মের যে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ উঠে এসেছে, তা যেকোনো সরকারি চাকুরির শৃঙ্খলা বিধিকে চরমভাবে লঙ্ঘন করে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পলাশ শিকদার সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই অফিসে অনুপস্থিত থাকতেন। তিনি মনে করতেন, কর্মকর্তা হিসেবে তার ক্ষমতার উৎস এতোটাই গভীরে যে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তার নেই। তার এই ধারাবাহিক অনুপস্থিতির কারণে রাজউকের নিয়মিত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ গ্রাহকদের ফাইল মাসের পর মাস ধুলো জমে আটকে থাকত। গ্রাহকরা দিনের পর দিন ঘুরে হতাশ হয়ে ফিরে যেতেন, অথচ তার দেখা পাওয়া যেত না। নিজের এই বিপুল পরিমাণ অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢেকে রাখতে এবং রাজউকে নিজের অদম্য প্রভাব বজায় রাখতে তিনি কৌশল হিসেবে নিয়মিতভাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের উচ্চপর্যায়ে জোরালো তদবির ও লবিং চালিয়ে যেতেন। উর্ধ্বতন কর্তাদের সাথে সখ্য গড়ে তুলে তিনি নিজেকে আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। তবে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কমিটির তদন্তে দুর্নীতির প্রাথমিক ও শক্ত সত্যতা মেলায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় শেষ পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় এবং তাকে রাজউকের মূল কার্যকারী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OSD) হিসেবে সংযুক্ত করে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের পর অনুসন্ধানে নামে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি প্রতিরোধক সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত শুরু হয় এবং তাকে একাধিকবার প্রাতিষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়ে তার অর্জিত যাবতীয় বৈধ ও অবৈধ সম্পদের হিসাব তলব করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তের প্রয়োজনে তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে হাজির করে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যেখানে তিনি তার বিপুল পরিমাণের সম্পদের সঠিক উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হন। তার অসদুপায়ে অর্জিত কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ যাতে তিনি অন্য কোথাও পাচার বা হস্তান্তর করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে দুদক থেকে তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পলাশ শিকদারের নিজের নাম ছাড়াও তার স্ত্রী এবং বোনের নামে থাকা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সেসব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে ফ্রিজ (Freeze) বা লেনদেন স্থগিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। একই সময়ে রাজউকের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে নকশা জালিয়াতি, সরকারি পদের অপব্যবহার এবং মারাত্মক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।​দুদক সূত্র থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে বর্তমানে আইনি ঘেরাও আরও জোরদার করা হয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, তার নামে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও বিলাসবহুল ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, ব্যবহার করেন দামি হ্যারিয়ার মডেলের ব্যক্তিগত গাড়ি এবং রাজধানী ও রাজধানীর আশেপাশে তার একাধিক বেনামি জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব অবৈধভাবে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাাবর সম্পত্তি যেন তিনি আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর দিয়ে বিক্রি করতে না পারেন, সেজন্য সেগুলোকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছে সংস্থাটি। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে উক্ত ডুপ্লেক্স বাড়ি, হ্যারিয়ার গাড়ি এবং বেনামি জমি ক্রোক করার জন্য বা অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার (Attachment Order) জারির আবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কাজ চূড়ান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এক সময়ের দাপুটে এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা ইমারত পরিদর্শক পলাশ শিকদার এখন তার অপকর্মের চূড়ান্ত পরিণতির মুখোমুখি। একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও যেভাবে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, রাজউকের সাধারণ নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেননি এবং শতকোটি টাকার দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, তা আজ পুরোপুরি চুরমার হওয়ার পথে। তদন্তকারী কমিটি ইতোমধ্যে রাজউকের মতো একটি জাতীয় স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা এবং ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো কর্মকর্তার জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা তৈরি করার উদ্দেশ্যে পলাশ শিকদারকে চাকরি থেকে চিরতরে বা স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার জোর সুপারিশ পেশ করেছে। বর্তমানে বিভাগীয় মামলা, দুদকের মামলা এবং সম্ভাব্য ক্রোক আদেশের সমন্বয়ে তার পুরো সিন্ডিকেটের পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসকল বিষয়ে পলাশ সিকদারের মন্তব্য জানতে তার অফিসে গেলে সকল বিষয় অস্বীকার করে বলেন আপনি যে তথ্য নিয়ে এসেছেন তা সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এগুলোর সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আপনি রিপোর্ট করলে আমি মামলা দিবো মর্মে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

Ad