জামালপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ

  • প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১২:৪১
  • আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১২:৪১
1000242699

জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বেলতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, শারীরিক লাঞ্চনা, প্রাণনাশের হুমকি এবং প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে উপজেলা শিক্ষা অফিস ও জামালপুর জেলা শিক্ষা অফিসে অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে । অভিযোগ এর বিষয়ে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভূঁইয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বুধবার(১ জুলাই) বিকাল ৫ টা ২০ মিনিটে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা। 

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকলেও বর্তমান প্রধান শিক্ষক যোগদানের পর থেকে তাকে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। তার পরিবর্তে বিদ্যালয়ের পিয়নকে দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করিয়ে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানালে প্রধান শিক্ষক একাধিকবার তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, মারধরের চেষ্টা করেন এবং জামালপুর শহরে যাতায়াতের পথে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এছাড়া ইতিপূর্বে সহকারী শিক্ষক সাহীন খানকে বিদ্যালয়ের ভেতরে পাইপ দিয়ে মারধরের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রধান শিক্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহকারী শিক্ষক ইসমাইল হোসেন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবিরকে কারণ ছাড়াই শোকজ করেন। পাশাপাশি ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দিয়ে সেটি ব্যক্তিগত আলমারিতে তালাবদ্ধ করে রাখেন প্রধান শিক্ষক । তিনি আরো বলেন, ক্যালেন্ডার, ডায়েরি, ব্যাজ, পিকনিক, অতিরিক্ত ভর্তি ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, ফরম পূরণ ফি, কোচিং ফি এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে আদায়কৃত অর্থ বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের বই, পুরোনো ভবন, গাছ, ইট ও রড বিক্রির অর্থও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন। এছাড়া বিভিন্ন গাইড বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে নিম্নমানের বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।  তিনি আরো জানান, বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি।২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ লাখ টাকা আয় হলেও তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ আয়-ব্যয় শূন্য টাকা দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালেও ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ টাকা ব্যাংকে জমা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করে বলেন,আমি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তদন্ত আসলে সত্যতা মিলবে। আমি বিচার চাই।  

বেলতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য না। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে এর আগেও কয়েকবার শোকজ করা হয়েছে। যার ফলে তিনি মিথ্যা অভিযোগ আনতেছে।

অন্যদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভূঁইয়া জানান,তদন্ত চলছে। সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷  

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা জানান, অভিযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে সরোজমিনে সকল কাগজপত্র ও ফাইল পত্র যাচাই বাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। পাশাপাশি তিনি আরো জানান, অভিযোগ কারীর বিরুদ্ধেও বিদ্যালয়ে অনেক অভিযোগ। ওনাকে ৩/৪ বার শোকজ করা হয়েছে। ওনি একই সময় একই বিদ্যালয়ে চাকুরির পাশাপাশি জেলা পরিষদ থেকেও বেতন নিয়েছে এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটাও আমরা তদন্ত করব। আমরা সরোজমিনে শুনে যাচাই বাচাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Ad