ব্রাহ্মণপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর টানা ১২ দিন অনশন

  • প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, বিকাল ০৬:৫৫
WhatsApp Image 2026-07-02 at 4.15.16 PM

জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক তরুণীর টানা ১২ দিন ধরে অনশন করার ঘটনা ঘটেছে। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ভূয়ারপাড়া গ্রামের মোসাম্মৎ নুসরাত জাহান নামের ওই তরুণী বিয়ের দাবিতে গত ১২ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ​ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম(ফেসবুক) এর সাহায্যে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খন্দকারের ছেলে মো. আবু সাঈদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে রাজধানী ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ​নুসরাত জাহান জানান, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাঈদ তাঁকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকার এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থান করার পর নুসরাত বিয়ের কথা তুললে আবু সাঈদ তাঁকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে কৌশলে পালিয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসেন। ​পরবর্তীতে নুসরাত জাহান প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে পৌঁছালে আবু সাঈদ তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাঁকে টানা হেঁচড়া করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। ​পরে ইউপি চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। কিন্তু অভিযুক্ত আবু সাঈদ বৈঠক থেকে কৌশলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন নুসরাত। এরপর থেকেই নুসরাত জাহান প্রেমিকের বাড়িতে অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ​এ বিষয়ে অনশনরত তরুণী নুসরাত জাহান বলেন, আবু সাঈদ আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে যাব না। ​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি ওই বাড়িতে অবস্থান করলেও অভিযুক্ত যুবক ও তাঁর পরিবার কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবারের অনড় অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ​শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি হয়নি। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা সবাই বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানিয়েছি। ​উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন জানান, "খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। ​সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নুসরাত জাহান ও আবু সাঈদের মধ্যে কোনো আপস-মীমাংসা বা বিয়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়নি। অভিযুক্ত আবু সাঈদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Ad