‘লোহার প্রাচীর’ ভোজিনহা—স্পেনকে থামিয়ে ইতিহাস গড়া এক অবিশ্বাস্য রাত

  • প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, দুপুর ০৪:৪১
  • আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, দুপুর ০৪:৪৪
Screenshot_1

ইমদাদুল হকঃ

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন তিনি। কিছুক্ষণ পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। সতীর্থরা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন তাকে। সেই কান্না শুধু আবেগ নয়—একটি দেশের ফুটবল ইতিহাসে লেখা নতুন অধ্যায়ের প্রতীক।বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে। আর এই রূপকথার নায়ক ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা—যিনি একাই যেন স্পেনের আক্রমণভাগের সামনে ‘লোহার দেয়াল’ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।ম্যাচজুড়ে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে তিনি হয়ে ওঠেন দলের রক্ষাকবচ। ফেরান তোরেস, পেদ্রি এবং আইমেরিক লাপোর্তের মতো তারকাদের নিশ্চিত গোলের সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন এই অভিজ্ঞ গোলকিপার। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এটি শুধু একটি পারফরম্যান্স নয়—এটি ছিল প্রতিরোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।ভোজিনহার আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। তবে ফুটবল বিশ্বে তিনি পরিচিত ‘ভোজিনহা’ নামেই—যার অর্থ ‘ছোট দাদি’। এই নামের পেছনেও আছে আবেগঘন গল্প। শৈশবে বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং মা ছিলেন কর্মব্যস্ত। ফলে জীবনের বড় অংশ তিনি কাটিয়েছেন দাদা-দাদির কাছে। সেই সম্পর্কের টান থেকেই জন্ম নেয় এই নাম।কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে শহর থেকে শুরু হয় তার ফুটবলযাত্রা। পরবর্তীতে আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ক্লাব ফুটবল খেললেও নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে ‘ভোজিনহা’ নামটি তিনি আগলে রেখেছেন।চলতি বছরের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অ্যাঙ্গোলায় খেলার সময় তার নামের আরেকজন গোলরক্ষক থাকায় তিনি ‘জোসিমার-২’ না হয়ে নিজের ডাকনামকেই বেছে নেন। সেই সিদ্ধান্তই আজ তাকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে বিশ্বমঞ্চে।বর্তমানে তিনি পর্তুগালের ক্লাব শ্যাভেসের হয়ে খেলছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কেপ ভার্দে, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই এমন পারফরম্যান্সের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। আমি কেঁদেছি কারণ আমার দাদা-দাদি আজ বেঁচে নেই—তারা আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন।”মায়ের প্রসঙ্গ টেনে তার কণ্ঠ আরও ভারী হয়ে ওঠে। ভিসা জটিলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার মা গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। “মা এখানে থাকতে পারেননি—এটা আমার জন্য কষ্টের,” বলেন তিনি।ই এক ম্যাচেই বদলে গেছে ভোজিনহার জীবন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি বেড়ে গেছে তার জনপ্রিয়তা। লাখ থেকে মিলিয়নে পৌঁছে গেছে অনুসারীর সংখ্যা। ফুটবল বিশ্বের তারকারাও মুগ্ধ তার পারফরম্যান্সে। পল পগবা লিখেছেন, “কেপ ভার্দের গোলরক্ষক সত্যিই অবিশ্বাস্য—ওয়াও!”ফুটবল মাঝে মাঝে এমন গল্পই লিখে—যেখানে বড় দল থেমে যায়, আর এক অপ্রত্যাশিত নায়ক হয়ে ওঠে পুরো বিশ্বের আল’ ভোজিনহা—স্পেনকে থামিয়ে ইতিহাস গড়া এক অবিশ্বাস্য রাত

Ad