গতি-ঝড়ে বদলে গেল ম্যাচ: নাহিদ রানার ভয়ঙ্কর সুন্দর প্রত্যাবর্তন
ইমদাদুল হক,ঢাকা:
এক ম্যাচ আগেও তিনি ছিলেন খরুচে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১০ ওভারে ৬৫ রান খরচ করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু দুই দিনের ব্যবধানে সেই নাহিদ রানাই হয়ে উঠলেন ম্যাচের নায়ক। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিলেন বড় সাফল্য।সংখ্যা বলছে, নাহিদ রানার বোলিং ছিল অসাধারণ। তবে কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁর পারফরম্যান্সের পুরোটা বোঝানো কঠিন। কারণ, তাঁর আসল শক্তি ছিল গতি। উইকেট নেওয়া পাঁচটি বলের গতিই ছিল ১৪০ কিলোমিটারের বেশি—১৪৪.৭, ১৪৬.৮, ১৪৬.১, ১৪৪.১ ও ১৪১.৬ কিমি/ঘণ্টা। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন ধারাবাহিক গতিতে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।ইনিংসের অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ করে চমক দেখান নাহিদ। পরের ওভারেই বাউন্সারে উইল ইয়াংকে ফেরান। শুরুতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন তিনি।মাঝের সময়ে নিউজিল্যান্ড কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আবারও আঘাত হানেন নাহিদ। আব্বাসকে ফিরিয়ে ভাঙেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর শেষ দিকে ডিন ফক্সক্রফট ও জেডন লেনেক্সকে আউট করে নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে দেন তিনি।নাহিদ রানার বোলিংয়ে ছিল গতি, বাউন্স এবং পরিকল্পনার মিশেল। শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের তৈরি করা চাপকে কাজে লাগিয়ে ঠিক সময়ে উইকেট এনে দিয়েছেন তিনি। পাওয়ার প্লে থেকে শুরু করে ডেথ ওভার—সব জায়গাতেই রেখেছেন নিজের ছাপ।
তবে নাহিদ রানার বোলিংয়ের একটি দিক স্পষ্ট—তিনি সব সময় ধারাবাহিক নাও হতে পারেন। কখনো খরুচে হবেন, রান দেবেন বেশি। কিন্তু তাঁর সেই অতিরিক্ত গতিই আবার অন্যদিন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।এর আগেও পাকিস্তানের বিপক্ষে একই মিরপুরে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। মাঝে কিছুটা খরুচে থাকলেও আবারও প্রমাণ করলেন—ঠিক দিনে তিনি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন।
নাহিদ রানা তাই কেবল একজন পেসার নন, তিনি বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ অস্ত্র। তাঁর গতি যেমন ঝুঁকি তৈরি করে, তেমনি সেই গতিই প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারে। আর সেদিনই তিনি হয়ে ওঠেন—‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’।



