ঈশ্বরদীতে লিচুর মুকুলে ভরে গেছে গাছ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।

    • প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১১:০২
    • আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১১:০২
    1000131709

    ঈশ্বরদী প্রতিনিধিঃ লাবলু বিশ্বাস

     পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ৮০ দশক থেকে লিচুর চাষ শুরু হয় । ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষি সম্প্রসারনের হিসেব অনুযায়ী অত্রাঞ্চলের বিস্মৃত এলাকা জুড়ে ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে চাষ হয় রসালো এবং সুস্বাদু ফল লিচু। এখানে ২ ধরনের লিচু চাষ হয় আঁটি এবং বম্বাই লিচু , পুরো উপজেলা জুড়ে ছোট বড় মিলিয়ে মোট লিচুর বাগান রয়েছে ১১ হাজার ২৭০ টি। গতবছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকার। তবে এ বছর গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় আগের যে কোন সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করছেন অত্রাঞ্চলের চাষীরা। 


    উপজেলার লিচু চাষীদের তথ্যমতে, বছরের মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল ফোটা সম্পন্ন হয়। যে গাছে মুকুল আসে না সে গাছ গুলোতে ফাল্গুনের শুরুতেই নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। আর যে গাছে মুকুল আসে সে গাছে মুকুলে ছেয়ে যায়।


    ঈশ্বরদীতে মূলত ৩ জাতের লিচুর চাষ হয় সবচে বেশী। এগুলোর মধ্যে মোজাফ্ফর বা দেশী, বোম্বাই বা চায়না-৩ অন্যতম। তবে বর্তমানে বেশ কিছু কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ এবং চায়না-২ জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে এ অঞ্চলে। তবে চায়না-৩ জাতের লিচুর স্বাদ ও চাহিদা সবচে বেশী থাকার কারনে বর্তমানে এ অঞ্চলে এই জাতের লিচুর চাষ বাড়ছে।


    উপজেলার চরমিরকামারী, গাংমাথাল, জয়নগর, নওদাপাড়া, ভাড়ইমারী, সিলিমপুর, আওতাপাড়া, জগন্নাথপুর, শেখের দাইড়, মুন্নার মোড়, বক্তার পুর, কদিম পাড়া, মানিক নগর, ছিলিমপুর এলাকা গুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। মুকুল আসেনি এমন গাছের সংখ্যা সামান্য। যা শতকরা ২০/ থেকে ২৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছেন তারা। 


    নওদাপাড়া এলাকার মো: নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুর আনুপাতিক হারে বেশী। আমার প্রায় শতাধিক লিচুর গাছ রয়েছে। গত বছর ৩৫ থেকে ৪০ টি গাছে লিচু আসলেও এবার কমবেশী প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।


    মিরকামারী এলাকার লিচু চাষী ও ব্যবসায়ী মো: আরিফ বলেন, গেল বছর লিচু কম থাকায় তেমন ব্যবসা করতে পারিনি। তবে এবার লিচুর গাছে বেশ মুকুল দেখা যাচ্ছে। আশাকরি গত বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি এবার পোষাতে পারব।


    জগন্নাথপুর এলাকার লিচুর মৌসুমি ব্যবসায়ী মো: কুদ্দুস বলেন, প্রতিবছরই আমরা লিচুর মুকুল আসার আগেই অনেক বাগান কিনে থাকি। এবারও কিনেছি। তবে গত বছর ঠকে গেলেও এবারের অবস্থা আশানুরুপ অনেকটাই ভালো। কেননা প্রায় গাছেই লিচুর মুকুল ফুটেছে। আশা করছি এবার ভালো কিছু হবে।  


    ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মোমিন বলেন, গত বছর লিচুর পরিমান কম থাকলেও এবার লিচুর মুকুল গাছ ছেয়ে গেছে । গত বছরের শেষ দিকের বর্ষা বিদায় নিয়েছে বেশ আগেই । আবার এ বছর রাতে শীত দিনে কিছুটা গরম পড়ছে। সব মিলিয়ে এবার লিচুর জন্য আবহাওয়া রয়েছে অনুকুলে। তাই ফলনের মাত্রাটাও আশা করা যাচ্ছে ভালো হবে।

    Ad