ইরানে হামলা চালিয়ে বিপাকে আমেরিকা
ইরানে হামলা চালিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছে আমেরিকা। লাভবান হতে এসে খুলে বসতে হয়েছে ক্ষতির খাতা। ইরানের তাণ্ডবে একের পর এক হারাতে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে তিলে তিলে গড়ে তোলা মার্কিন ঘাঁটিগুলো।
চারিদিকে ভেসে বেড়াচ্ছে গুঞ্জন। তবে কি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আধিপত্য কায়েমের স্বপ্ন? নিজ দেশ আমেরিকাতেও কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের জেরে এড়াতে পারছেন না নিজ দলের সতীর্থদের বাকা দৃষ্টি। প্রশ্ন উঠেছে ইসরায়েলকে সংগে নিয়ে ইরানে হামলা চালিয়ে কি আসলেই ভুল করেছেন ট্রাম্প?
তেহরানের উপর নজরদারি চালানোর জন্য যেসব সামরিক ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে তুলেছিল ওয়াশিংটন সেগুলোই যেন পরিণত হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের দুর্বলতায়। সুপরিকল্পিতভাবে আঘাত হানছে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা থাকা চোখ ও হৃৎপিণ্ড বরাবর।
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দুর্দশা নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বা সিএসআইএস। সেই প্রতিবেদনের আলোকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের হামলায় যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতি গুণতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।
টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধটির সম্ভাবনা আছে আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার। ফলে এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে থাকা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রাডার।
সিএসআইএসের পর্যালোচনা অনুযায়ী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের জন্য এ এন টি পি ওয়াই ২ রাডার সিস্টেমটির মূল্য প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ভবন স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোর প্রায় ৩১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, আল আসালিম, আল উদেইদ এবং প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে একাধিকবার আঘাত হেনেছে ইরান। বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌঘাঁটি এবং কুয়েতের ক্যাম্প আরিফ জানও বাদ যায়নি ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয় মার্কিন সামরিক অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী যুদ্ধের প্রথম দিনেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। ১২ দিনে সেটি পৌঁছেছে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে। যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে পেন্টাগন। এখন দেখার পালা কোথায় গিয়ে থামে আমেরিকার খরচের পাল্লা।
ইমদাদুল হক, কলামিষ্ট



